টলিউডে শোকের ছায়া যেন কাটছেই না। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক প্রয়াণ এখনও মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। প্রবীণ অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় আবেগঘন স্মৃতিচারণায় জানালেন, আজ উত্তমকুমারের স্মরণে অনুষ্ঠানে যাওয়া যেমন অভ্যাস, তেমনই একদিন রাহুলকেও স্মরণ করে অনুষ্ঠানে যেতে হবে। তবে সেই দিনগুলোর কথা ভাবলেই মন ভার হয়ে উঠছে তাঁর। তিনি বলেন, এই বয়সে এমন চলে যাওয়া সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন, তবু বাস্তবকে অস্বীকার করার উপায় নেই।
মাত্র ৪৩ বছর বয়সে এক প্রাণবন্ত, ভদ্র এবং মাটির কাছাকাছি মানুষকে হারানোর শোক যেন আরও গভীর। মাধবী দেবীর কথায়, ধারাবাহিক ভোলে বাবা পার করেগা-তে রাহুল তাঁর নাতির চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তবেও তাঁদের মধ্যে এক আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কাজের ফাঁকে গল্প, আড্ডা, হাসি সব মিলিয়ে রাহুলকে নিজের খুব কাছের মানুষ মনে করতেন তিনি। এমনকি রাহুল নিজেই একদিন তাঁর সাক্ষাৎকার নেবেন বলে কথা দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি অপূর্ণই থেকে গেল।
শুটিংয়ের সময় এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। মাধবী মুখোপাধ্যায় নিজের জীবনের একটি অভিজ্ঞতা টেনে বলেন, একসময় তিনিও সমুদ্রে শুটিং করতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়েছিলেন, তবে ভাগ্যের জোরে ফিরে আসতে পেরেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস, রাহুলের ক্ষেত্রে সেই ভাগ্য সহায় হয়নি। তিনি এটাকে নিয়তি কিংবা প্রকৃতির অদ্ভুত খেলা বলেই মনে করেন। এই হঠাৎ চলে যাওয়া যেন আরও বেশি করে নাড়া দিচ্ছে সবাইকে।
বর্তমানে ধারাবাহিকের শুটিং বন্ধ রয়েছে, ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। রাহুলের জায়গায় অন্য কাউকে মেনে নেওয়া কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্নও উঠে আসছে। মাধবী দেবী বলেন, এর আগেও চরিত্র বদল হয়েছে, কিন্তু এবার বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ এবার একজন অভিনেতা শুধু চরিত্র থেকে নয়, জীবন থেকেই বিদায় নিয়েছেন। এই শূন্যতা পূরণ করা যে কতটা কঠিন, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
আরও পড়ুনঃ মা’দকচক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফ’তার টলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা! চাঞ্চল্য নেটদুনিয়ায়
তবুও জীবন থেমে থাকে না। সময়ই ধীরে ধীরে সব ক্ষত সারিয়ে তোলে, এই বিশ্বাসেই এগোতে হয়। যেমন আজ উত্তম কুমার-কে প্রতিদিন মনে না পড়লেও তাঁর স্মৃতি অমলিন, তেমনই রাহুলও থেকে যাবেন সকলের মনে। মাধবী মুখোপাধ্যায় বলেন, অভিনয় তাঁর কাছে মন্দিরের মতো, আর সেই মন্দিরে পূজা করে যেতেই হবে শেষ দিন পর্যন্ত। শত কষ্টের মাঝেও কাজই একমাত্র ভরসা, আর সেই কাজের মধ্যেই বেঁচে থাকবেন রাহুল।
